জটিল অফশোর নেটওয়ার্ক

ইরানি ব্যাংকারের ইউরোপে ৪০ কোটি ইউরোর সাম্রাজ্য

যুক্তরাজ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এক ইরানি ধনকুবের ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন খাতে শত শত মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছেন।

যুক্তরাজ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এক ইরানি ধনকুবের ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন খাতে শত শত মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছেন। ইরানে গত বছর ধসে পড়া আয়ান্দেহ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য আলি আনসারির বিরুদ্ধে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে অর্থায়ন করছেন এমন অভিযোগ রয়েছে দেশটিতে।

করপোরেট নথি পর্যালোচনা করে এফটির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মায়োর্কার একটি গলফ রিসোর্ট থেকে শুরু করে অস্ট্রিয়ার একটি স্কি হোটেল পর্যন্ত বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিকানা গড়ে তুলেছেন আলি আনসারি।

গত অক্টোবরে আয়ান্দেহ ব্যাংক ধসে পড়ার পর যুক্তরাজ্য আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

রেভল্যুশনারি গার্ডসংশ্লিষ্টতাসহ ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ইরানি ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী’ হিসেবে আখ্যা দেয় এবং লন্ডনে তার ১৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পত্তি অবরুদ্ধ করে।

তবে জটিল অফশোর কোম্পানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লুক্সেমবার্গ ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস থেকে শুরু করে অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও স্পেনে আলি আনসারি অপ্রকাশিত বিশাল এক সম্পত্তি সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন।

ল্যান্ড রেজিস্ট্রিতে নথিভুক্ত ক্রয়মূল্য ও কোম্পানির হিসাবপত্রে উল্লেখিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ মিলিয়ে আনসারির মোট সম্পত্তির মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ইউরোয়।

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা তালিকা অনুযায়ী, আনসারির কাছে ইরান, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ও সাইপ্রাস এ তিন দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। তবে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সম্পত্তিগুলো দেখাচ্ছে পশ্চিমা অর্থনীতিতে প্রবেশ রোধের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কীভাবে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ধনকুবেররা ইউরোপে বড় ধরনের সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছে।

বছরের পর বছর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। গত বছরের শেষ দিকে আয়ান্দেহ ব্যাংকের পতন সে পরিস্থিতিকে আরো তীব্র করে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরবর্তী বৈঠকের আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

আরও